ফরেস্টের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? সেই ফরেস্ট গাম্প! আলাভোলা, নিষ্পাপ, সাদা মনের একজন মানুষ। কার না পছন্দ এই চরিত্র?! ফরেস্ট গাম্প দেখার এতোদিন পরেও যেনো সেই টম হ্যাংকসকেই খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। শেষ-মেশ যেনো পেলাম!  ‘The Terminal‘ এর Navorski এর চরিত্র যেনো ঠিক সেই ফরেস্টেরই প্রতিরূপ!

পুরো নাম Viktor Navorski. ইউরোপের Krakozhia নামক এক দেশের বাসিন্দা সে। বিশেষ এক কাজে নিউইয়র্কে আসে সে। কিন্তু JFK এয়ারপোর্টে ল্যান্ডিং এর পর ইন্সপেকশন এর সময়ই নাভোরস্কিকে আটকে দেয় কাস্টমস। জব্দ করে নাভোরস্কির পাসপোর্ট এবং রিটার্ন টিকেট। কারণ নাভোরস্কি যখন JFK এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে তখন তার দেশ Krakozhia তে বিদ্রোহীরা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ায় আমেরিকা আর Krakozhia কে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। তাই নাভোরস্কির পাসপোর্ট আর ভ্যালিড থাকে না। কাগজে-কলমে নাভোরস্কি হয়ে পড়ে দেশ বিহীন একজন মানুষ। এখন সে নিউইয়র্কের মাটিতে পা রাখতে পারবে না, আবার নিজ দেশেও ফেরত যেতে পারবে না। ইউ.এস কাস্টমস এন্ড বর্ডার প্রটেকশন নাভোরস্কিকে JFK এয়ারপোর্টের ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে বলে। নাভোরস্কির হাতে ধরিয়ে দেয় বেশ কিছু ফুড কুপন আর ডায়ালিং কার্ড। একটা লাগেজ আর বাদামের ক্যান বাদে নাভোরস্কির আর কোনো সম্বলও নেই। অল্প-স্বল্প ইংরেজি কথা বলার জ্ঞান নিয়ে টার্মিনালের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে সে। এরপর ধীরে ধীরে ঘটতে থাকে মজার মজার সব ঘটনা। নাভোরস্কি কি পারবে টার্মিনাল থেকে মুক্ত হতে? সে কি নিউইয়র্কের মাটিতে পা রাখতে পারবে নাকি ফিরে যেতে হবে নিজ দেশ Krakozhia তে?

স্টিভেন স্পিলবার্গের পরিচালনায় ‘The Terminal‘ মুভিতে Viktor Navorski এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সবার প্রিয় টম হ্যাংকস। এতোটা দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন যে মুভিটা শুরু করলে আপনি এক বসাতে দেখতে বাধ্য। মুভিটা দেখার সময় আমার বারবার সেই ফরেস্ট গাম্পের কথা মনে পড়ছিলো :’) কে জানে আপনাদেরও হয়তো ফরেস্টের কথা মনে পড়ে যাবে!  ফ্রান্সের প্যারিস এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-১ এ ১৯৮৮ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত Mehran Karimi Nasseri এর দীর্ঘদিন আটকে থাকা ঘটনা থেকে আংশিক অনুপ্রাণিত হয়ে স্পিলবার্গ ‘The Terminal‘ তৈরি করেছেন। মুভির অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন Catherine Zeta-Jones, Stanley Tucci, Diego Luna, Zoe Saldana, Chi McBride, Kumar Pallana, Barry Shabaka Henley সবাই ই ভালো অভিনয় করেছেন। এদের মধ্যে Catherine Zeta-Jones এর কথা আর না-ই বা বললাম!  মুভিটা দেখতে দেখতে আপনি টম হ্যাংকসের কার্যকলাপ দেখে হেসে উঠবেন একটু পর পর, আবার টমের আবেগের সাথে যেনো নিজেকে আর আটকে রাখতে পারবেন না কিছু দৃশ্যে।

সব মিলিয়ে বলবো এটা স্পিলবার্গ-হ্যাংকস জুটির সবচেয়ে সেরা সিনেমা না হলেও, দেখার জন্য দারুণ উপভোগ্য। স্পিলবার্গ-হ্যাংকস জুটির জন্য হলেও এই চমৎকার মুভিটা বারবার দেখা যায়! 

IMDb Rating: 7.3/10
My Rating: 9/10

হ্যাপি ওয়াচিং!